শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৬:৫৩ পিএম, ২০২৫-১১-১২
-- নবীন চাণক্য সেন
ডক্টর ইউনূসের সাথে সাধারণ মানুষের কোন আত্মিক বা মানসিক সম্পর্ক তৈরি হয়নি। এত বড় একটা আন্দোলন হল, এতগুলো লোক মারা গেল, এতগুলো মানুষ আহত হল, এ সরকারের প্রথম উচিত কাজটি ছিল আহতদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং যাঁরা মারা গেছেন তাঁদের পরিবারকে সার্বক্ষণিক সহায়তা করা; তাঁদের পরিবারের সদস্যদের মনোবলকে চাঙ্গা করার চেষ্টা অব্যাহত রাখা। কারণ তাঁরা তো এখনো ট্রমার মধ্যেই আছেন। ডক্টর ইউনুসের প্রথম কাজ ছিল তাঁদেরকে ট্রমা থেকে বের করে আনার এবং পুনর্বাসন করার সর্বাত্মক চেষ্টা করা। এটাই হওয়া উচিত ছিল এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রথম প্রায়োরিটি। আর এই কাজটা না করার কারণে বা করলেও সেটা উল্লেখযোগ্যভাবে না হওয়ার কারণে বা অনেকটা অবহেলার মত হওয়াতে জুলাইয়ের আন্দোলনকারী, আহত, নিহত এবং আহত- নিহতদের পরিবারের সাথে এই সরকারের একটা গ্যাপ তৈরি হয়েছে ।আর এই গ্যাপ ধীরে ধীরে অবিশ্বাস,অশ্রদ্ধা ও আস্থাহীনতায় পূর্ণ হচ্ছে।
আহত এবং নিহতদের পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে ডঃ ইউনূসের সাথে সাধারণ মানুষের একটা আবেগময় সুসম্পর্ক তৈরী হওয়ার একটা সুযোগ ছিল।দু:খজনক হলেও সত্য যে,সেই সুযোগটা ডঃ ইউনুস মিস করেছেন। যেকোনো কারণেই হোক বা যেভাবেই হোক উনি মিস করেছেন।আর এটা এমন একটা মিস,যা ড.ইউনুসকে
ইতিহাসের খাতায় 'নিষ্ঠুর অবহেলাকারী' হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে।
আন্দোলনকারীরা মনে করছেন, সেই সাথে যাঁরা আহত হয়েছেন কিন্তু চিকিৎসা পাচ্ছেন না তাঁরাও মনে করছেন - ডক্টর ইউনুস তাঁদের ব্যাপারে যথেষ্ট আন্তরিক নন।এমনকি তাঁদের চিকিৎসার ব্যাপারেও আন্তরিক নন। বরং তাঁরা ভাবছেন - ডক্টর সাহেবের সরকার তাঁদের চিকিৎসা ও যত্ন নেয়াটাকে বোঝা মনে করছেন।
আন্দোলনকারী,আহত ও নিহতদের আত্মীয়-স্বজনরা ভাবতে শুরু করেছে- এত বড় রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের স্প্রিটের সাথে ডক্টর ইউনুস ও তাঁর উপদেষ্টারাসহ অন্যান্য সহযোগীরা কোন আন্তরিকতা পোষণ করেন না। দেশের সাধারণ মানুষেরাও হয়তো ইতোমধ্যে এই ভাবনা ভাবতে শুরু করেছেন।এই ভাবনা শুরু হওয়াটা ডক্টর সাহেবের জন্য এবং তাঁর সরকারের জন্য অনেক বড় একটি ক্ষতি।কারণ যে মনগুলোতে এরূপ ভাবনার উদয় হচ্ছে সেই মনগুলোই ছিল তাঁর সরকারের ম্যান্ডেটের জায়গা। সম্পূর্ণ ভালোবাসা আর সম্মানের উপর গড়ে উঠা ম্যান্ডেটের এই সৌধগুলো ভেংগে গেলে তাঁর সরকারের বৈধতা ও অস্তিত্ব কোনটাই থাকে না। জনগণের সাথে তাঁর সরকারের বৈধ সম্পর্ক শেষ হয়ে পড়ে।
বিয়ে একটি পারস্পরিক অংগীকার, একটি পবিত্র ও প্রেমময় চুক্তিও বটে। এটা মূলত: পূর্ণবয়স্ক একজন নারী এবং পূর্ণবয়স্ক একজন পুরুষের মধ্যে একটা চুক্তিবদ্ধ সম্পর্ক সৃষ্টি করে; একই সাথে এই বিয়ের কারণে দুই পরিবারের অসংখ্য আত্মীয়স্বজনের মধ্যে একটা মধুময় সম্পর্ক তৈরি হয়। এখন কথা হলো যদি এই দুই নারী পুরুষের সম্পর্ক ভেঙে যায় তবে বিয়ের সাথে সাথে তৈরি হওয়া অপরাপর সম্পর্কও ভেঙে পড়ে। তেমনিভাবে এদেশের মানুষের সাথে, এই দেশের সাথে বা এই রাষ্ট্রের সাথে ডক্টর সাহেব এবং তাঁর সরকারের যে সম্পর্ক তৈরি হয়েছে তা আন্দোলনকারী ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে যাঁরা আহত হয়েছেন এবং যাঁরা নিহত হয়েছেন তাঁদের মাধ্যমে।কোলের শিশুরাও রক্ত দিয়েছে এই আন্দোলনে।এদিক থেকে এই আন্দোলন
বিরল। রক্তস্রোতই হলো এই সরকার এবং জনগণের সম্পর্কের সেতু। এমন সম্পর্কে যদি চিড় ধরে, যদি বিশ্বাস এবং আন্তরিকতার ঘাটতি দেখা দেয় তবে তা এই সরকারের ম্যান্ডটের উপর অবশ্যই অনেক বড় একটা আঘাত।অনেক আহতরা দীর্ঘদিন ধরে আহত হাসপাতালে পড়ে আছেন। তাঁদের ঠিকমতো চিকিৎসা হচ্ছে না। যাঁরা নিহত তাঁদের পরিবারকে ট্রমা থেকে বের করে আনার জন্য, তাঁদেরকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য কোনো ব্যবস্থাই সরকার গ্রহণ করেনি। ফলে যেটা হয়েছে তা হলো আন্দোলনকারীরা এবং আন্দোলনকারীদের মধ্যে যাঁরা মারা গেছেন তাঁদের পরিবারের সদস্যরা, আর যাঁরা আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে শুয়ে শুয়ে কাতরাচ্ছে চিকিৎসার অভাবে তাঁরা মনে করছেন ডক্টর ইউনুস ও তাঁর সরকার আন্দোলনকারীদের প্রতি এবং যে উদ্দেশ্য নিয়ে আন্দোলনকারীরা সংগ্রাম করেছেন সেটার প্রতি, আর যাঁরা আহত হয়েছেন তাঁদের প্রতি, এবং যাঁরা নিহত হয়েছেন তাঁদের রক্ত ও পরিবারের প্রতি অনবরত উদাসীনতা,অশ্রদ্ধা ও অবহেলা প্রদর্শন করে চলেছেন।
ফলে সম্পর্কের ভিত্তি হিসাবে পারস্পরিক যে আস্থা ও বিশ্বাস ছিল , সেটা নষ্ট হয়ে গেছে। আন্দোলনকারী এবং আন্দোলনে আহত নিহতদের পরিবারের সদস্যরা এবং আহতদের মধ্যে যাঁরা চিকিৎসা পাচ্ছেন না তাঁরা এই সরকারকে আন্তরিক হিসেবে পাননি। ফলে উনারা সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে যথেষ্ট সন্দিহান হয়ে পড়েছেন।যার ফলে সাধারণ জনগণও আর এই সরকারকে আন্তরিক বলে বিশ্বাস করে না।বরং কোন কোন ক্ষেত্রে এই সরকারের আচরণকে জনগণ অভিজাতদের উন্নাসিকতা বলে ধরে নিচ্ছে।সুন্দর সুন্দর পাঞ্জাবি পরে 'চোস্ত ইংরেজি বলার' প্রদর্শনী করে নিজেদেরকে অতিমাত্রায় শিক্ষিত, সুশীল,দক্ষ আর কার্যকর ও সক্রিয় দেখানোর হাস্যকর প্রচেষ্টাকে ইদানীং 'খুব পুঅর ' (very poor) লাগছে জনগণের কাছে।
শুরুতে ডক্টর সাহেবের সরকারের প্রতি মানুষের যে আবেগ ছিল এখন আর সেই আবেগ নেই।সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষের এই আবেগহীনতাটাকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এখন কাজে লাগাতে পারছে। কারণ রাজনৈতিক নেতারা তাঁদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় বুঝতে পারছেন এখন আর ডক্টর ইউনুসের জন্য প্রাণ দিতে কেউ রাস্তায় নামবে না।
জাহাজ ছেড়ে দিয়েছে। অনেক কিছু মিস করে ফেলেছেন। শুধুমাত্র নিহতদের পরিবারদেরকে পুনর্বাসন এবং আহতদেরকে পূর্ণ আন্তরিকতার সাথে চিকিৎসা দিতে পারলে এই সরকারের ভীত অনেকখানি মজবুত হয়ে যেত।এখন মনে হচ্ছে - এই সরকারের ভীত শুরুটার মত আর মজবুত নেই।যা এই জাতির জন্য ভালো কোন লক্ষণ নয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র দাখিলের ...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : চট্টগ্রামের কিশোরী সুপর্বা সুধা বিশ্বাস। ১৩ বছর বয়সী অষ্টম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর ঝুলিতে ইতোমধ্...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : বাংলাদেশ এডিটরস্ ফোরাম গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, সম্প্রতি চট্টগ্রামের একটি দৈনিক পত্রি...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : নোবিপ্রবি প্রতিনিধি : জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি ও শহীদদের স্মরণে বাংলাদেশ ইসলাম...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শুধু পুরুষের শাস্তির বিধান কেন অবৈধ নয়, তা জানতে ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোর বিচার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এগোচ্...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited